শুরুটা কেমন ছিল?
রাহাত হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াকালীন বিপিএলের প্রতি অসম্ভব টান অনুভব করতেন। প্রতিটি ম্যাচের স্কোরকার্ড মুখস্থ থাকত তার — কোন বোলার কোন পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর, কোন ব্যাটসম্যান পাওয়ারপ্লেতে বেশি রান করেন, এসব তথ্য তিনি এমনিতেই মাথায় রাখতেন। বন্ধুরা মজা করে বলত, "তুই তো ক্রিকেট কমেন্টেটর হতে পারতিস।"
২০২৩ সালের শুরুর দিকে একজন বন্ধুর কাছে Jetbin-এর কথা শোনেন। প্রথমে দ্বিধা ছিল — অনলাইন বেটিং মানেই কি টাকা নষ্ট? কিন্তু প্ল্যাটফর্মটা নিজে দেখে বুঝলেন, এখানে পরিসংখ্যানের সুযোগ আছে। প্রথম মাসে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করলেন।
কৌশল কীভাবে তৈরি হলো?
রাহাত প্রথম থেকেই একটা নিয়ম মেনে চলেছেন — আবেগ দিয়ে কখনো বেট করবেন না। প্রিয় দল ঢাকা ডমিনেটর্সকে ভালোবাসলেও, যদি তাদের অডস যুক্তিসংগত না হয়, তাহলে তাদের বিপক্ষেও বেট রাখতে পারেন। এই মানসিক শৃঙ্খলাটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
তার মূল কৌশল ছিল ইনিংস-বাই-ইনিংস বিশ্লেষণ। কোন মাঠে গড় প্রথম ইনিংস স্কোর কত, বোলিং প্রথমে বেছে নেওয়া দল কতবার জিতেছে — এসব তথ্য সংগ্রহ করে একটা ছোট স্প্রেডশিট বানালেন। Jetbin-এর লাইভ অডস দেখে সেটার সাথে নিজের বিশ্লেষণ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন।
প্রথম বড় সাফল্য
২০২৩ সালের বিপিএল প্লেঅফে রাহাতের কৌশল সত্যিকার পরীক্ষার মুখে পড়ল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বনাম ফরচুন বরিশালের ম্যাচে অধিকাংশ বেটর বরিশালকে ফেভারিট ধরছিলেন। কিন্তু রাহাত লক্ষ্য করলেন, কুমিল্লার বোলিং লাইনআপ সেই মাঠে ঐতিহাসিকভাবে ভালো করেছে এবং বরিশালের শীর্ষ দুই ব্যাটসম্যান সাম্প্রতিক ফর্মে একটু পিছিয়ে। তিনি ২,০০০ টাকা কুমিল্লায় রাখলেন ২.৮০ অডসে। কুমিল্লা জিতল — রাহাত পেলেন ৫,৬০০ টাকা।
১৮ মাসে কী শিখলেন?
Jetbin-এ দেড় বছর কাটিয়ে রাহাত যা শিখেছেন তার সারসংক্ষেপ: বেটিং একটা দীর্ঘমেয়াদী খেলা। একটা ম্যাচে হারলে মাথা ঠান্ডা রাখুন, পরের ম্যাচে আরও বড় বেট রেখে ক্ষতি পোষাতে যাবেন না। প্রতিটি হারকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — বাজেটের বাইরে কখনো যাবেন না।